আব্দুল মতিন মুন্সী ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরে জুলাই-২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হামলা ও হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি জেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি শেখ ফয়েজ আহম্মেদ (৫০)–কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের আলীপুর গোলপুকুর ড্রিম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার একটি দল তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
গ্রেপ্তারকৃত ফয়েজ আহম্মেদ ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, চ্যানেল এসটিভির ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি এবং শহরের গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা শেখ মানিকের ছেলে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ হওয়ায় তার গ্রেপ্তারকে ঘিরে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ বলেন,
“জুলাই-২৪ আন্দোলনের দিন শেখ ফয়েজ প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছে। যে মামলাটি এখন চলমান, সেখানে সে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি। আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করলেও সে নিয়মিত ফেসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ফয়েজ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল বলেন,
“মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। সন্ধ্যায় আলীপুর এলাকায় অবস্থানকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত জুলাই-২৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয় এবং হামলাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার কেন্দ্রীয় আসামিদের একজন হলেন শেখ ফয়েজ আহম্মেদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তার গ্রেপ্তারের খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
NEWS Editor