মোঃ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার, ৫ নভেম্বর দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তজীর মন্দির প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে শুরু হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন শ্রী শ্রী রুক্মিণী কান্তজীউ রাস মেলা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অপূর্ব সমন্বয়ে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মনজুরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন,
এই রাস মেলা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্প্রীতি রক্ষায় এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় করে।”
তিনি আরও বলেন,দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির শুধু পূজার স্থান নয়, এটি দেশের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক জীবন্ত নিদর্শন। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের সবার দায়িত্বশীল হতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় রয়েছে শতাধিক দোকান, হস্তশিল্প ও পিঠা-পায়েসের স্টল, নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর—সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই মন্দির প্রাঙ্গণ রঙিন আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকবে বলে জানিয়েছেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তজীর মন্দিরে এই রাস মেলার সূচনা হয় প্রায় তিনশ বছর আগে রাজা প্রাণনাথ রায়ের আমলে। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছরই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে এই মেলা।
দিনাজপুরের মানুষ শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও এই রাস মেলাকে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন।
NEWS Editor