ঢাকা | বঙ্গাব্দ
.

বিরামপুরে ইতিহাসের মঞ্চায়ন ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে জেগে উঠল পরাজয়ের ইতিহাস ও প্রজন্মজাগানিয়া পাঠ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

 ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের ময়ূরাক্ষী পুকুরপাড়ের মুক্তমঞ্চ ছিল একসময় নিরব ও নির্জন। সেই স্থানটিই এখন পরিণত হয়েছে সংস্কৃতি, ইতিহাস আর জনসম্পৃক্ততার এক নতুন কেন্দ্রস্থলে। আর এই পরিবর্তনের নেপথ্য কারিগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম আওন। তাঁর উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা মুক্তমঞ্চেই মঙ্গলবার রাতে মঞ্চস্থ হয় ঐতিহাসিক মঞ্চনাটক ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, যা যেন নতুন প্রজন্মের সামনে পুনরায় উন্মোচিত করল স্বাধীনতা হারানোর কাহিনি।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মঞ্চনাটক–২০২৫’-এর প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম। ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ময়ূরাক্ষী পুকুর প্রাঙ্গণের মুক্তমঞ্চে পর্দা ওঠার পর থেকেই দর্শকশ্রেণী ডুবে যায় মঞ্চ, রসদ, শব্দ, আলো ও অভিনয়ের বর্ণাঢ্য সমন্বয়ে সাজানো ইতিহাসের অনুপম দৃশ্যপটে।

নাটকে ফুটে ওঠে পলাশীর যুদ্ধের পূর্বাপর প্রেক্ষাপট, মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকতা আর এক তরুণ নবাবের ছিন্নভিন্ন হওয়া স্বপ্ন। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া বলে—টেক্সটবুকের শুষ্ক ইতিহাস মানুষকে যেমন না বদলাতে পারে, তেমনি মঞ্চায়িত ইতিহাস মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দেয়; তৈরি করে দায়িত্ববোধ।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ভাষ্য, নিয়মিত এমন নাট্যায়ন তরুণদের মনে ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা গড়ে তোলে। কেউ কেউ মত দিয়েছেন—স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে এমন নাটক দেখার সুযোগ তৈরি করা গেলে জাতি ইতিহাস থেকে আবারও শিক্ষা নিতে পারত।

এই মঞ্চনাটক সফল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী,, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষক সমাজ নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। আয়োজন দেখে স্পষ্ট হয়—এটি ছিল না কেবল একটা রাতের নাটক; বরং ছিল একটি সাংস্কৃতিক মানস গঠনের কৌশলগত পদক্ষেপ।

এ উপলক্ষে আয়োজনে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সম্পূর্ণ অর্থ জোগান দিয়েছেন বিরামপুর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য কর্মকর্তা বৃন্দ।

বিরামপুরবাসীর ভাষায়—ময়ূরাক্ষী পুকুর নির্মাণ, মুক্তমঞ্চ স্থাপন ও সেখানে ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আয়োজন সম্ভব হয়েছে মূলত নুজহাত তাসনীম আওনের দূরদর্শিতা ও সক্রিয় সংস্কৃতিচর্চার মনোভাবের ফলেই। তাঁদের মতে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেবল অফিস পরিচালনা করেন না—নীরবে সমাজকে গড়ে দেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : NEWS Editor

কমেন্ট বক্স